মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

হিলারি-ট্রাম্প বিতর্কে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ বিতর্ক দেখায় পূর্বের রেকর্ড ছাড়াবে

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে আজ সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো বিতর্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিলারি সাবেক ফার্স্ট লেডি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিনেটর। ফলে তার বিতর্ক করার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু জীবনে এই প্রথম কোনো বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্প। তবে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজিত না হয়ে বিতর্কে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন হিলারি। আর ট্রাম্পের উপদেষ্টারা বলেছেন, ট্রাম্পও উত্তেজিত না হয়ে হিলারির সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের ঝুলিতে ভোটার টানার চেষ্টা করবেন। সবকিছু ছাপিয়ে আজকের বিতর্কে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ ইস্যু। আশা করা হচ্ছে, দশ কোটি মানুষ এই বিতর্ক শুনবেন এবং দেখবেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফ ও নিউইয়র্ক টাইমসের
বিতর্কের আগে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে করা জরিপে হিলারি এবং ট্রাম্প সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। ওয়াশিংটন-এবিসি নিউজের করা জরিপে দুইজনই ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তবে চারজন প্রার্থীর মধ্যে হিলারি পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ এবং ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। আজ স্থানীয় সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কের হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত বিতর্কে অংশ নিবেন হিলারি ও ট্রাম্প। তারা মোট তিনটি বিতর্কে অংশ নিবেন। আজই প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিতর্ক হবে ৯০ মিনিটের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিতর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত জরিপে এখনো ২০ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই হার ছিল ১২ শতাংশ। ফলে দোদুল্যমান ভোটারদের কাছে টানতে বিতর্ক বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। বিতর্কে কোনো প্রার্থীর ন্যুনতম দুর্বলতা দেখা গেলে তার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। আর দুই প্রার্থী জোরালোভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেক আগেই। বিতর্কের প্রস্তুতি উপলক্ষ্যে তারা নির্বাচনী প্রচারণাও কমিয়ে দিয়েছেন। জরিপে দশজনের মধ্যে আটজন বলেছেন, তারা সোমবারের বিতর্ক দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। ৪৪ শতাংশ মনে করছেন হিলারি বিতর্কে জয় পাবেন। ৩৪ শতাংশ মনে করেন, জয় পাবেন ট্রাম্প। ১৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, বিতর্ক দেখে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন।
বিতর্কে গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাসবাদ, পররাষ্ট্রনীতিসহ সীমান্ত সমস্যা। নিউইয়র্ক, নিউজার্সিতে বোমা হামলা এবং শনিবার ওয়াশিংটন শপিং মলে বন্দুকধারীর গুলিতে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এই বিতর্কে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া আইএস এবং সিরিয়া  ও ইরাক ইস্যুও গুরুত্ব পাবে। বিতর্কে আসতে পারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রসঙ্গও। চীনের সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসতে পারে বিতর্কের মধ্যে। প্রেসিডেন্ট ওবামা পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে পারেন ট্রাম্প। এছাড়া সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে চেষ্টা করবেন দুইজনই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর সম্পর্ক এবং ন্যাটো প্রসঙ্গও আসতে পারে।
রাজনৈতিক কৌশলীরা জানিয়েছে, এই বিতর্ক দেখবেন কিংবা শুনবেন দশ কোটি মানুষ যা পূর্বের সব রেকর্ডকে ছাড়াবে। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টার এবং রোনাল্ড রিগ্যানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্কে এই সংখ্যা ছিল ৮ কোটি।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম /    ২৫-০৯-২০১৬ ইং/মোঃ হাছিব