মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্তিম শয়ানে জয়ললিতা

BenjaminBlumenth ৫৭ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়রামের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে গুরু এম জি রামাচন্দ্রনের সমাধির পাশে চন্দনকাঠের বাক্সে করে জয়ললিতাকে শেষ শয়ানে শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুতে শোকে স্তব্দ হয়ে পড়েছে গোটা তামিলনাড়ু। ঘোষণা করা হয়েছে সাত দিনের শোক। রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রষ্ঠানে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ বিদায়ের আগে তাকে একনজর দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামে।

গতকাল জয়ললিতার মরদেহ সারা দিন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চেন্নাইয়ের পাবলিক অডিটোরিয়াম রাজাজি হলে রাখা হয়। সেখান থেকে বিকেলে জাতীয় পতাকায় ঢেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তিন কিলোমিটার দূরের মেরিনা বিচ এলাকায়। সেখানেও লাখো মানুষের ভিড় জমে যায়। জয়ললিতার শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেশের অসংখ্য রাজনীতিবিদ উপস্থিত হন। নয়াদিল্লি থেকে উড়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিও। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে রাজাজি হলে গিয়ে দুপুরে জয়ললিতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদী। এ ছাড়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীসহ দেশটির আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জয়ললিতার শেষকৃত্য ও সমাহিত করার সময় উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে ওই এলাকায় সারা দিন নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়। তার মৃত্যুর পর সোমবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন পনিরসেলভাম। তিনিও প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর শেষকৃত্যে অংশ নেন।
তিন মাস চিকিত্সাধীন থাকার পর সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে জয়ললিতা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত, সমর্থক ও দলীয় কর্মীরা নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। তার মরদেহ ভারতের জাতীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়। অসংখ্য মানুষ লাইন ধরে প্রিয় নেত্রীর কফিনের পাশ দিয়ে হেঁটে যান এবং তাকে এক নজর দেখেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ শোকে মাতম করতে থাকেন। প্রিয় নেত্রীর ছবি নিয়ে এক অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন অনেকে। অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা জয়ললিতা তার লাখ লাখ সমর্থকের কাছে ‘আম্মা’ নামেই পরিচিত ছিলেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর জ্বর ও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।   দীর্ঘদিন রোগভোগের পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এমন দাবি করা হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় জানা যায়, তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার সারা দিনই মানুষের মাঝে এ নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছিল। সন্ধ্যায় গুজব ছড়ায়, মারা গিয়েছেন ‘আম্মা’। কিন্তু পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই খবর সত্য নয়। তবে শেষ পর্যন্ত রাত সোয়া বারোটা নাগাদ ঘোষণা করা হয়, রাত সাড়ে এগারোটায় মারা গেছেন রুপালি পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ জয়ললিতা।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ০৬- ১২-২০১৬ ইং / মো: হাছিব