মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

শ্লীলতাহানির সময়ের পোশাক দেখাতে প্রদর্শনী

BenjaminBlumenth ৫৯ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

 

ভারতে বিভিন্ন সময়ে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার সময় পরনে থাকা পোশাক দেখাবে শ্লীলতাহানির শিকার মেয়েরা। ব্ল্যাঙ্ক নয়েজ নামে দেশটির সংগঠন এ পোশাক দেখাতে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। ‘আই নেভার আস্ক ফর ইট’ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীতে ১০ হাজার পোশাক প্রদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঙ্গালুরুতে নববর্ষের প্রথম প্রহরে শ্লীলতাহানির ঘটনার পর সমাজবাদী দলের বিধায়ক আবু আজমি এ ঘটনার জন্য তরুণীদের ‘ছোট পোশাককে’ দায়ী করেন। এ ছাড়া কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরও সেদিনের শ্লীলতাহানির জন্য মেয়েদের পশ্চিমা ছোট পোশাককে দায়ী করেন। তাঁদের এ বক্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে দেশটিতে। এরই প্রতিবাদে ব্ল্যাঙ্ক নয়েজ সংগঠনটি পোশাক প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে শ্লীলতাহানির শিকার মেয়েদের কাছ থেকে পোশাক সংগ্রহ করছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাঁরা দেখাতে চান, শ্লীলতাহানি কিংবা যৌন নিগ্রহের জন্য পোশাক দায়ী নয়। ১৫ জানুয়ারি প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে বেঙ্গালুরুর শ্লীলতাহানির ঘটনাস্থল এমজি রোডের অদূরে ব্রিগেড রোডে। অনলাইনেও এই প্রদর্শনী চলবে।

ব্ল্যাঙ্ক নয়েজ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জেসমিন পাথেজা বলেন, প্রদর্শনীর জন্য নয়টি শহরে বিভিন্ন সময়ে শ্লীলতাহানির শিকার মেয়েদের কাছ থেকে ওই পোশাকগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে। মোট ১০ হাজার পোশাক প্রদর্শন করা হবে। অনেকেই এমন আচরণ করে ভাবেন, এটা নিছকই মজা। কিন্তু মেয়েদের কাছে এটা হয়রানি। শ্লীলতাহানির জন দেশের নেতারা যখন মেয়েদের পোশাককে, চলাফেরা ও স্বাধীনতাকে দায়ী করেন—তখন অন্যরা তো এসব করার সাহস পাবেই।’

প্রদর্শনীতে প্রতিটি পোশাকের পাশে ওই মেয়ের শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার সময়ের কাহিনিও লেখা থাকবে। ব্ল্যাঙ্ক নয়েজ সংগঠনটি প্রদর্শনীটি সফল করার জন্য ফেসবুকেও ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার সময় পরনে থাকা একটি পোশাক। ছবি: ফেসবুকের ‘আই নেভার আস্ক ফর ইট’ ইভেন্ট পেজ থেকে নেওয়াএবার নববর্ষের রাতে বেঙ্গালুরুর এমজি রোডে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। সেখানে অসংখ্য তরুণী ও নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও কারও সাড়া পাননি নারীরা। আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থাকা প্রায় দেড় হাজার পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

  মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৬ -০১-২০১৭ইং  / মো: হাছিব