মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

মিশরে রাশিয়ার সব ধরনের যাত্রীবাহী বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: ভ্লাদিমির পুতিন

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৪৮ বার পঠিত

putin-russia
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মিশরে রাশিয়ার সব ধরনের যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মিশরের সিনাই উপদ্বীপে রাশিয়ার বিমান বিধ্বস্তের তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার আগ পর্যন্ত মিশরে রাশিয়ার সব ধরনের যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ থাকারা এ নির্দেশনা দেন তিনি। বোমা বিস্ফোরণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সম্ভাব্য এই কারণে আগেই ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড মিশরের শারেম আল শেখ বিমানবন্দর থেকে তাদের সব ধরনের বিমান উড্ডয়ন প্রত্যাহার করে নেয়।

রাশিয়ার এফএসবি সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান আলেক্সান্দার বোর্ৎনিকভের পরামর্শে মিশর থেকে রাশিয়ার বিমান চলাচল বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

আজ শুক্রবার পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য না জানা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে বলেও জানান তিনি।

পুতিন একই সঙ্গে ন্যাশনাল এন্টি-টেররিস্ট কমিটিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া মিশরে থাকা রাশিয়ার নাগরিকদের কী উপায়ে দেশে আনা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিমান চলাচলের বিষয়ে যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের খোলামেলা আলোচনারও নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন।

মিশরের সিনাই উপদ্বীপে রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বোমা বিস্ফোরণের তত্ত্ব হাজির করে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। আজ শুক্রবারও তাদের দাবির পক্ষে জোরালো তথ্য তুলে ধরা হয়। ব্রিটেনের গোয়েন্দার মতে উড্ডয়নের আগে বিমানের ভেতরেই ওই বোমাটি ছিল।

তবে বরাবরের মতো মিশর ও রাশিয়া এ দাবি নাকচ করে আসছিল। এ নিয়ে দেশ দুটিকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছিল তারা। তবে মিশর থেকে রাশিয়ার বিমান চলাচল বাতিলের আজকের এ সিদ্ধান্ত বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বোমাতত্ত্বের সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুলছে।

গত ৩১ অক্টোবর মিশরের শারেম আল শেখ বিমানবন্দর থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগ যাওয়ার পথে মিশরের সিনাই উপদ্বীপে মেট্রোজেট এয়ারবাস এ৩২১ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২২৪ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়। যাত্রীদের অধিকাংশই রাশিয়ার পর্যটক।

দুর্ঘটনার পরপরই ইসলামী স্টেট (আইএস) ঘটনার দায় স্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনও অনেকবার বলে এসেছে এ হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের যোগসূত্রতা থাকতে পারে। তবে তাদের দাবি নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া ও মিশর বলেছে, এখনো তদন্ত চলছে, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।

ব্রিটেনে অবস্থানরত মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদল নিয়ে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো কিছুই গোপন করা হবে না।

বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের তদন্ত সহায়তাকারী দল বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি খুঁজে পাননি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়া অসম্ভব।

যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট টেররিস্ট এনালাইসিস সেন্টার (জেটিএসি) গত কয়েকদিন ধরে বিমান দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে নানা হিসাব-নিকাশ করে আসছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণটি তারা উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ধারণা, কেউ একজন বিমানটিতে আগেই বোমা বহন করে নিয়ে গেছেন। কারো লাগেজে বা বিমানটির কমপার্টমেন্টে বোমটি থাকতে পারে।

দুর্ঘটনার পর আইএস দায় স্বীকার করলে কীভাবে তারা বিমানটি বিধ্বস্ত করেছে সে সম্পর্কে কিছু বলেনি।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।