মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

আমি নারীবাদী : বিশ্ব নেতাদের সামনে শান্তিতে নোবেল জয়ী মালালা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৮ বার পঠিত

malala
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ গত বছর শান্তিতে নোবেল জয়ী পাকিস্তানি কিশোরী ও নারীশিক্ষা আন্দোলনকর্মী মালালা ইউসুফজাই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্ব নেতাদের সামনে নিজেকে একজন নারীবাদী বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

কিন্তু আজ শুক্রবার তাকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হি নেমড মি মালালা’র প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসনকে মালালা সরাসরি বলেছেন, ‘আমি একজন নারীবাদী’। এ সময় তিনি বলেন, নারীবাদ একটি কৌশলী শব্দ। যখন প্রথমবার আমি শব্দটি শুনি, ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই রকমভাবেই গ্রহণ করেছি। নারীবাদী হিসেবে আমার অবস্থান হ্যাঁ কিংবা নাÑ এ ব্যাপারে আমি কিছুটা ইতস্ত ছিলাম।

এমা ওয়াটসনকে মালালা বলেন, নারীবাদ নিয়ে তোমার বক্তব্য শোনার পর মনে হয়েছে নিজেকে নারীবাদী দাবি করা খারাপ কিছু নয়। সুতরাং আমিও নারীবাদী এবং আমাদের সবাইকে তাই হওয়া উচিত। কারণ নারীবাদের অন্য অর্থ সমতা।

জাতিসংঘের নারী কল্যাণ বিষয়ক বিশেষ দূত এমা ওয়াটসন গত বছর থেকে লিঙ্গ ইস্যুতে ‘হি ফর সি’ ক্যাম্পেইন শুরু করেন। নারী অধিকার নিয়ে পুরুষের সোচ্চার হওয়ার বিষয়ে তিনি এ প্রচারে নামেন।

ওই অনুষ্ঠানে মালালা বলেন, লিঙ্গ-সমতার বিষয়ে আমাকে আরো এগিয়ে যেতে হবে। আমার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই পুরুষ মানুষের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনিও নিজেকে একজন নারীবাদী দাবি করেন। এ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও বাবা তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

২৫ বছর বয়সী চলচ্চিত্র তারকা ওয়াটসন বলেন, নারীবাদী ইস্যুতে মালালার আজকের এ বক্তব্য সম্ভবত আমার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। আগেই আমার পরিকল্পনা ছিল এ বিষয়ে মালালাকে কিছু জিজ্ঞাসা করব। আজকের অনুষ্ঠানের আগে তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। মালালা আমাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলল তুমি কি নারীবাদী? এরপর আমার উত্তরে আশ্বস্ত হয়ে নিজেকে খুঁজে পেল মালালা। সম্ভবত নারীবাদী শব্দটি খুব একটি সহজ বিষয় নয়। কিন্তু মালালা এটিকেই সহজ করে নিয়েছে।

২০১২ সালে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে বিবিসি উর্দুতে তার ধারাবাহিক রোজনামচা লেখার কারণে তালেবানের রোষাণলে পড়ে। একদিন স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে বন্দুকধারীরা তাকে গুলি করে। মাথায় গুলি লাগলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় ১৪ বছর বয়সী এই বালিকা। পরে ব্রিটেনে গিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর মালালা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে নারীশিক্ষা আন্দোলনের একজন আইকনে পরিণত হয়। এ জন্য গত বছর তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।