মিশরে রাশিয়ান বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ বোমা বিস্ফোরণ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ মিশররের সিনাই উপদ্বীপে রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বোমা বিস্ফোরণের কথাই পুনর্ব্যক্ত করলেন তদন্ত দলের একটি অংশ। তাদের মতে বোমা বিম্ফোরণের আশঙ্কা শতকরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বার্ত সংস্থা রয়টার্সকে বিমানটিতে থাকা ব্ল্যাক বক্সের শব্দ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য এ কারণের কথা জানিয়েছেন মিশরীয় তদন্ত দলের এক সদস্য।
তিনি জানিয়েছেন, ‘ব্ল্যাক বক্সের শব্দ বিশ্লেষণ করে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দুর্ঘটনার কারণ বোমা বিস্ফোরণ। আমরা ৯০ শতাংশ নিশ্চিত বিমানটিতে বোমাই ছিল।’ বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় ওই সদস্য নাম প্রকাশ করেননি।
বাকি ১০ শতাংশ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন এই বিষয়ে কিছু বলতে অপারগ।’
তবে মিশরের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে; দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সব ধরনের সম্ভাবনাই থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত উপসংহারে আসার এখনো সময় হয়নি।
গত ৩১ অক্টোবর মিশরের শারেম আল শেখ বিমানবন্দর থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ যাওয়ার পথে বিমানটি উড্ডয়নের ২৩ মিনিট পর মিশরের সিনাই উপদ্বীপে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা ২২৪ যাত্রী ও ক্রুর সবাই নিহত হন। যাত্রীদের অধিকাংশই ছিল রাশিয়ার পর্যটক। ঘটনার পরপরই ইসলামী স্টেট (আইএস) ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল বোমা বিস্ফোরণে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে পারে। ব্রিটেনের গোয়েন্দাদের মতে, বিমানটির ডেকে বা কোনো যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীর লাগেজে বোমাটি লুকানো থাকতে পারে। তবে এ দাবি মিশর ও রাশিয়া বার বারই অস্বীকার করে আসছিল। অবশেষে মিশর থেকে রাশিয়ার সব বিমান চলচল নিষিদ্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘোষণার পর এই ধারণা জোরালো হয় যে, বোমা বিস্ফোরণের কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে শনিবার মিশরে থাকা ১১ হাজার রাশিয়ান নাগরিক দেশে এসেছে। আজ রোববারও আরো বিপুল সংখ্যক নাগরিককে দেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সহকারী প্রধানমন্ত্রী আরকাদি দাভোরকোভিশ। ১১-৭৬ নামে দুটি কার্গো জাহাজে করে তাদের নিরাপদে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি ও মেইল অনলাইন।