মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তানের ১১০ থেকে ১৩০টি পরমাণু অস্ত্র

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৬ বার পঠিত

atom-bomb_Pakistan

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ

ভারতকে চাপে রাখতে ১১০ থেকে ১৩০টি পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে পাকিস্তান। ভারত যেন পাকিস্তানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের কথা চিন্তা না করে, সেজন্য পরমাণু অস্ত্র মজুদ রেখেছে দেশটি।

মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের।

কংগ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র প্রস্তুত রাখার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে হামলা ঠেকানোর কৌশল প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসেস (সিআরএস) তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারে ১১০ থেকে ১৩০টি পরমাণু ওয়ারহেড আছে। এর চেয়ে বেশিও থাকতে পারে। ইসলামাবাদ ফিসাইল পদার্থ (পরমাণু চুল্লিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক) উৎপাদন করছে। এর মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্রের উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন এবং নতুন ধরনের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরির  কাজ করছে তারা।

সিআরএসের ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তানের ‘পূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ ভারতকে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান থেকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু দিনদিন ইসলামাবাদের পরমাণু অস্ত্র বাড়ানো, নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো করছে, যা উদ্বেগজনক।

সিআরএস মার্কিন কংগ্রেসের স্বাধীন গবেষণা সংস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, যেন আইনপ্রণেতারা তথ্য-উপাত্ত দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই সংস্থার কোনো প্রতিবেদন কংগ্রেসের অফিসিয়াল মতামত হিসেবে বিবেচিত হয় না।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের সবশেষ অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন সিআরএসের দুই সদস্য পল কে কের এবং ম্যারি বেথ নিকিতিন।

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাদের মতে, ২০০৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী এ কে খান যেসব পরমাণু অস্ত্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন সেগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করবে পাকিস্তান। নতুন ধরনের পরমাণু প্রযুক্তি ও রসদ তৈরি করবে না তারা।

সিআরএসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্রবিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। এর মধ্যে পরমাণু অস্ত্র রপ্তানি আইন কঠোর করা, পরমাণুবিষয়ক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা কর্মসূচি সমন্বয়করণ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পাকিস্তানের অস্থিতিশীলতা এসব সংস্কারের দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন্রে জন্ম দিয়েছে। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পাকিস্তানে মৌলবাদী শক্তি সরকারে এলে বা পরমাণু রসদ ও প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।