শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানে ক্যামেরনকে টিউলিপের চিঠি

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠি লিখেছেন টিউলিপ সিদ্দিক এমপি।
শুক্রবার লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এ চিঠি লিখেন।
পার্শ্ববর্তী আসন হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের এমপি কিয়ার স্টারমার এবং হর্নসি অ্যান্ড উড গ্রিন আসনের এমপি ক্যাথেরিন ওয়েস্ট যৌথভাবে ওই চিঠিতে সই করেন।
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপের চিঠিটি নিজ ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিন একই দাবিতে তিন এমপির একটি লেখা গার্ডিয়ানের অনলাইনে প্রকাশিত হয়।
চিঠিতে শরণার্থী প্রশ্নে ক্যামেরন সরকারের আচরণের সমালোচনা করে বলা হয়, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ঐতিহ্য নিয়ে আমরা সব সময় অহংকার করি। অথচ পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আপনার সরকার ওই গর্বের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নিজেকে পরিচালিত করছে না।
এতে বলা হয়, শরণার্থী প্রশ্নে সরকারের বর্তমান নীতি আমাদের সামনে সংকটকে আরও কঠিন করে তুলছে। এর ফলে মানবিক অবক্ষয়ের যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, তা গত বুধবার পত্রিকাগুলোর প্রথম পৃষ্ঠার খবরে স্পষ্ট হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার যুক্তরাজ্যের বেশির ভাগ দৈনিক তুরস্ক সমুদ্রতীরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি ছাপে। গ্রিস যাওয়ার পথে আয়লানদের বহনকারী নৌকা উল্টে গেলে মর্মান্তিক ওই ঘটনা ঘটে।
চিঠিতে বলা হয়, শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য তার পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হলে ওই রকম আরও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলো যাতে সাধ্যানুযায়ী ভাগ করে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয় সে লক্ষে দীর্ঘদিন চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য ওই সমঝোতায় কখনো রাজি হয়নি।
আবার শরণার্থী নিয়ে কোনো দেশ যাতে এককভাবে চাপে না পড়ে, সে জন্য শরণার্থী আশ্রয় প্রদানে উন্নত দেশগুলোর জন্য একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ। কিন্তু নিজস্ব নীতি মানার কথা বলে এতে নিজেদের যুক্ত করেনি যুক্তরাজ্য।
তবে শিশু আয়লানের মৃতদেহের ছবি প্রকাশের পর নানামুখী সমালোচনার চাপে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শুক্রবার কয়েক হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দেন।